সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি কনফিডেন্স সিমেন্ট পিএলসি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘোষিত এ লভ্যাংশের অর্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণে ব্যর্থ হয়েছে কোম্পানিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির শেয়ার বিদ্যমান ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুসারে বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) লভ্যাংশ অনুমোদনের পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের কাছে লভ্যাংশ বিতরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘোষিত লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ বিতরণ করতে না পারলে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমনের বিধান রয়েছে। কনফিডেন্স সিমেন্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম ৮০ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটির শেয়ার আজ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হবে।
চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কনফিডেন্স সিমেন্টের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৯৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ১৬ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭৪ টাকা ৭৫ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ১৫ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৪ টাকা ৭৫ পয়সায়।
২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কনফিডেন্স সিমেন্ট। ২০২১-২০২২ হিসাব বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছিল কোম্পানিটি। ২০২০-২১ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।
গত সেপ্টেম্বরে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কোম্পানিটি তাদের রেডিমিক্স কংক্রিট ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এর কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, একদিকে ডলার সংকটের কারণে কাঁচামাল আমদানি বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা চলছে। পাশাপাশি রেডিমিক্স ব্যবসার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপের প্রভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাহিদা কমেছে। এছাড়া সহযোগী কোম্পানিতে বিনিয়োগ ও মেয়াদি ঋণ পরিশোধের জন্য পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছিল কোম্পানিটির পর্ষদ। এক্ষেত্রে বিদ্যমান তিনটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ইস্যু করা হবে।